জুনিপার নেটওয়ার্কের ৪০০জি সলিউশন ব্যবহার করবে সামিট
শক্তি ও খরচ সাশ্রয়ের মাধ্যমে দেশের ব্রডব্যান্ড সংযোগ ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে জুনিপার-এর সমন্বিত অপটিক্যাল রাউটিং সলিউশন ব্যবহার করবে এন্ড-টু-এন্ড’ টেলিকমিউনিকেশন অবকাঠামো সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান সামিট কমিউনিকেশনস্ লিমিটেড।
সুরক্ষিত ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) চালিত নেটওয়ার্ক প্রদানের ক্ষেত্রে শনিবার গণমাধ্যমে পাঠানো সাংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান জুনিপার নেটওয়ার্কস-এর ‘৪০০জি কনভার্জড অপটিক্যাল রাউটিং সলিউশন সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য জুনিপার নেটওয়ার্কস-এর (এনওয়াইএসই: জেএনপিআর) পিটিএক্স সিরিজের রাউটার রাউটারটি সামিট-এর মূল নেটওয়ার্কের ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে। এটি নির্বিঘ্নে নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ এবং দেশের বিভিন্ন ‘পয়েন্ট অব প্রেজেন্স’-এ (পপ) শতাধিক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বর্ধিত সংযোগের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করবে।
এ নিয়ে সামিট কমিউনিকেশনস্ লিমিটেড-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) আরিফ আল ইসলাম বলেন, “বাংলাদেশে মোবাইল অপারেটর এবং ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার (আইএসপি) গ্রাহকদেরকে উচ্চমানের নেটওয়ার্কিং অবকাঠামো সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে আমরা ক্রমাগত অসাধারণ অগ্রগতি অর্জন করেছি। জুনিপার-এর সাথে আমাদের সম্পর্ক আরও জোরদার করতে পেরে, বিশেষ করে ৫জি সল্যুশন বাস্তবায়ন করতে পেরে আমরা আনন্দিত। তাদের সলিউশন আমাদের নেটওয়ার্কের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এর ফলে গ্রাহকদের জন্য ৫জি সংযোগ সুবিধা প্রদান করার সময় নেটওয়ার্ক স্লাইসিং এবং সেগমেন্ট রাউটিংয়ের দ্রুত, নির্ভরযোগ্য ও আলট্রা-লো-লেটেন্সি পরিষেবাসমূহ নিশ্চিতকরণ সম্ভব হবে। এই অংশীদারিত্বের মাধ্যমে ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্য বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবো বলে আমরা বিশ্বাসী।”
সামিট কমিউনিকেশনস্ লিমিটেড-এর চিফ নেটওয়ার্ক আর্কিটেক্ট মোঃ ফররুখ ইমতিয়াজ বলেন, “আমাদের মূল লক্ষ্যগুলোর একটি হলো নেটওয়ার্ক প্রদত্ত নতুন পরিষেবা উদ্ভাবনের পথে নেতৃত্ব দেওয়া। জুনিপার-এর ৪০০জি সল্যুশনস আমাদের নেটওয়ার্কের কার্যক্রমের পরিধি ও সক্ষমতা বাড়িয়ে আরও মজবুত ভিত্তি স্থাপন করতে সাহায্য করবে। আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, জুনিপার-এর সাথে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে গড়ে তোলা নেটওয়ার্ক আমাদেরকে বিশে^র সাথে সংযুক্ত করে সেরা মানের পরিষেবা প্রদানে সক্ষম করে তুলবে। এর ফলে আমরা এমন একটি ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজের বিকাশে অবদান রাখতে পারব, যেখানে সবাই অত্যাধুনিক পরিষেবা ব্যবহারের সুযোগ পাবে।”
জুনিপার নেটওয়ার্কস-এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর এবং ভারত ও সার্ক অন্তর্ভুক্ত দেশগুলোর কান্ট্রি ম্যানেজার সাজান পল বলেন, “বিগত বছরগুলোয় আমরা সামিট কমিউনিকেশনস্-এর সাথে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে বাংলাদেশের নেটওয়ার্কিং ল্যান্ডস্কেপ পরিবর্তনে কাজ করছি এবং আমরা তাদের নেটওয়ার্ক রূপান্তরের যাত্রায় ভূমিকা রাখতে পেরে গর্বিত। আমাদের অনন্য সল্যুশনগুলোর মাধ্যমে তাদের লক্ষ্য পূরণে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি সরবরাহে এবং ভবিষ্যত ব্যবসা ও গ্রাহকদের ক্রমবর্ধমান সংযোগের চাহিদা পূরণে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
গত এক দশকে বাংলাদেশে উল্লেখযোগ্যভাবে ডিজিটালাইজেশন হয়েছে। ৬৬.৯৪ মিলিয়ন (৬ কোটি ৬৯ লাখ ৪০ হাজারেরও বেশি) ইন্টারনেট ব্যবহারকারী নিয়ে বাংলাদেশ একটি উদীয়মান ডিজিটাল অর্থনীতির আবাসস্থলে পরিণত হয়েছে। এই রূপান্তরের প্রক্রিয়াকে আরও গতিময় করে তুলেছে বাংলাদেশ সরকার-এর ডিজিটাল বাংলাদেশ রূপকল্প। এই রূপকল্প যথাযথভাবে বাস্তবায়নে সহযোগিতা করার জন্য সামিট কমিউনিকেশনস্ দেশের নেটওয়ার্কিং অবকাঠামো গড়ে তোলার ক্ষেত্রে গুরুত্ব¡পূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। সামিট কমিউনিকেশনস্-এর নির্মিত দেশের বৃহত্তম ফাইবার অপটিক নেটওয়ার্ক অবকাঠামো এই ক্ষেত্রে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
বাংলাদেশে মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেট সংযোগসহ বিভিন্ন ধরনের ডিজিটাল সেবার চাহিদা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিষয়টি বিবেচনায় রেখে সামিট কমিউনিকেশনস্ বর্তমান ও ভবিষ্যতে দেশের সংযোগের চাহিদা মেটানোর জন্য উদ্ভাবনী নেটওয়ার্কিং সমাধানে অগ্রণী ভূমিকা রাখতে চায়। এক দশকের চেয়েও দীর্ঘ সম্পর্কের উপর ভিত্তি করে সামিট ৪০০জি নেটওয়ার্কের রূপান্তরের জন্য জুনিপার-এর সাথে অংশীদারিত্ব করেছে।
একটি কনভার্জড অপটিক্যাল রাউটিং আর্কিটেকচারের মাধ্যমে নিরবচ্ছিন্ন রূপান্তর নিশ্চিত করে নেটওয়ার্কের সম্প্রসারণ, সক্ষমতা এবং দক্ষতা বৃদ্ধি করতে সামিট কমিউনিকেশনস্ জুনিপার-এর পিটিএক্স১০০০০ সিরিজ প্যাকেট ট্রান্সপোর্ট রাউটার ব্যবহার করবে। ৪০০জি কোহেরেন্ট অপটিক্স সম্বলিত এই রাউটারগুলো সামিট-এর নেটওয়ার্কের ‘পয়েন্ট অব প্রেজেন্সগুলোকে (পপ)’ উচ্চ গতির ডেটা ট্রান্সমিশনে সক্ষম করে তুলবে।
জুনিপার-এর সাথে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে নেটওয়ার্ক উন্নয়নের ফলে সামিট কমিউনিকেশনস্ গ্রাহকদের চাহিদা মেটানোর ক্ষেত্রে আরও শক্তিশালী অবস্থান অর্জন করবে। এভাবে গ্রাহকদের উন্নত সেবার অভিজ্ঞতা প্রদান করে প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশের দ্রুত বিকাশমান ডিজিটাল অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখতে পারবে।







